WEB DESIGN, NETWORKING , CCTV SOLUTION

Tuesday, July 11, 2023

fish news

 এশিয়ার প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন কেন্দ্র "হালদা নদীর" ধানী পোনা বিক্রয় চলছে।।আজ সরবরাহ করলাম আনোয়ারা উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী,সমাজসেবক জনাব নুরুল আনোয়ার ভাই, ফটিকছড়ি উপজেলার জাফতনগর ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন ভাই, সোনালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা,শিক্ষানুরাগী সৈয়দ মোহান্মদ আলী।। যাদের অরিজিনাল হালদার পোনা লাগবে যোগাযোগ করবেন 

see mores

০১৮১৩২৪৯৮৪০

 

Wednesday, April 5, 2023

মেখলে কৃষি প্রণোধনা বিতরন

কাজী মোহাম্মদ মামুন, মেখল প্রতিনিধি


২০২২-২৩ অর্থবছরে খরিপ- মৌসুমে প্রনোদনা কর্মসুচীর আওতায় রোপা আউশ পাট উৎপাদনের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তার লক্ষ্যে ৫ই এপ্রিল বুধবার বিনামূল্যে বীজ সার বিতরণ মেখল ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তন চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে

প্রণোদনা কর্মসচী হিসাবে ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তার লক্ষ্যে সার বীজ বিতরণ করেন মেখল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন চৌধুরী।

05/04/2023

Saturday, April 1, 2023

গাউসিয়া কমিটির সাহরি মাহফিল


গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ পশ্চিম ও দক্ষিণ মেখল ইউনিয়ন শাখায় ব্যবস্থাপনায় অভিষেক ও সাহরী মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মেখল ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব সালাউদ্দিন চৌধুরী।  অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ ও সকলের  সুস্বাস্থ্যে ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। 

আগামী ১৮ ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড়ের শঙ্কা

আগামী ১৮ ঘণ্টায় দেশের অধিকাংশ এলাকায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বা তার বেশি বেগে কালবৈশাখী ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

Wednesday, March 22, 2023

প্রধানমন্ত্রীর উপহার ১৫২ টি ঘর হস্তান্তর

======================
মেখন ইউনিয়ন প্রতিনিধি (মামুন)
হাটহাজারীতে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় চতুর্থ পর্যায়ে ভূমিহীন ও গৃহহীন উপকারভোগীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আরও ১৫২ টি ঘর প্রদান করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সারা দেশের মতো হাটহাজারীতেও ঘর প্রদান অনুষ্ঠানটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃৃক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার কে চতুর্থ পর্যায়ে জমি ও গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ শাহিদুল আলম, ভূমি কর্মকর্তা আবু রায়হান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল আলম বাসেক, প্রশাসনিক বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং মেখল ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব সালাউদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। ঘর প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানায়।
এদিকে নতুন ঘরে উঠতে পারছে এমন খুশিতে গৃহহীন পরিবারের সদস্যদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে বলে সূত্রে জানা গেছে। ---------->

Wednesday, December 7, 2022

অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট আবেদন

 ধাপ : ১

অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে যে কেউ নিজের জন্য অথবা অন্যের পক্ষে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এর জন্য আবেদন করতে পারবে। নিবন্ধন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

ধাপ : ২

নিবন্ধিত ব্যবহারকারী অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সাইটে লগ-ইন করার পর Apply মেনুতে ক্লিক করে আবেদনপত্রটি যথাযথভাবে পূরণ করুন।।

ধাপ : ৩

আবেদন ফরমের প্রথম ধাপে ব্যক্তিগত বিস্তারিত তথ্য, দ্বিতীয় ধাপে বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা পূরণ করুন। আপনার বর্তমান ঠিকানা যে জেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত সেই ঠিকানায় পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হবে।

ধাপ : ৪

আবেদন ফরমের তৃতীয় ধাপে প্রয়োজনীয় ডকুমেণ্টসমূহের স্ক্যান কপি আপলোড করুন।

ধাপ : ৫

আবেদন ফরমের চতুর্থ ধাপে আপনার এন্ট্রিকৃত সকল তথ্য দেখানো হবে। আবেদনে কোন ভুল থাকলে তা পূর্ববর্তী ধাপসমূহে ফেরত গিয়ে পরিবর্তন করা যাবে। তবে চতুর্থ ধাপে আবেদনটি সাবমিট করার পর আর কোন পরিবর্তন করার সুযোগ থাকবে না।

ধাপ : ৬

চালানের মাধ্যেমে ফি পরিশোধের উপায় এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

সহজ নিয়মে অনলাইনে জিডি করুন

 


Online GD Application can be made from now on in Bangladesh. The general diary application for all police stations in Bangladesh can be found on the website gd.police.gov.bd. You can apply online from home for a GD for any purpose. The application can be completed easily with the National Identification NID Card information. From now on, the victim will not have to go to the police station physically. Prime Minister Sheikh Hasina inaugurated the program on June 21, 2022.

Online GD Application

"General Diary" (GD) means a general statement. Citizens lodged a GD with the nearest police station for the cooperation of the police on various issues, including threats and the recovery of lost items. Many of them do not know how to go to the police station to make a GD. In 2016, GD books were distributed in every police station in the country. The process of launching Police GD online is also going on.

Earlier, six years ago, the Prime Minister's Office of Bangladesh announced the launch of online GD as part of the A2I project.

Required information and Documents for Online GD

To apply for a GD Online, the following Documents and information will be required.

  1. Your national identity card number (NID number).
  2. Active Mobile Phone and Number
  3. Your recent photo.

Sunday, December 4, 2022

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ২০২৩: আবেদন ৮-১৫ ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত

২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদনের তারিখ

কলেজের একাদশ শ্রেণির ভর্তির অনলাইন আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ৮ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রি. তারিখ থেকে। অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত।

১৫০ টাকা ফি পরিশোধ করে পছন্দক্রম অনুসারে সর্বনিম্ন ৫টি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করা যাবে।

আবেদনকারী শিক্ষার্থীর এসএসসি সমমান পরীক্ষার রেজাল্ট ও কলেজের আসন সংখ্যার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হবে।

২০২০. ২০২১ ও ২০২২ সালের এসএসসি-দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

তবে কোন কলেজে ভর্তি আবেদন করতে গেলে, সে কলেজের চাহিদাকৃত সর্বনিম্ন জিপিএ থাকতে হবে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কলেজে ভর্তি আবেদনের জন্য সর্বনিম্ন কত জিপিএ প্রয়োজন হবে তা আগে থেকে জেনে নিতে হবে।

একাদশের ভর্তি ওয়েবসাইটে  বোর্ড ভিত্তিক সকল কলেজের আসন সংখ্যা ও চাহিদাকৃত জিপিএ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে।

২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ভর্তি সম্পর্কে কোন তথ্য জানার থাকলে আমাদের লিখে জানান।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন অথবা কম খরচে আবেদন করতে আমাদেরকে জানান



ক্লিক

 

Wednesday, November 30, 2022

১০০% প্রাকটিক্যাল অফিস প্রোগ্রাম শিখুন

 মাইক্রোসফট অফিস ট্রেনিংটি যারা অফিস আদালত , পড়াশুনা বা যে কোন কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করেন অথবা এক কথায় বলতে গেলে আজকের দুনিয়ায় অপরিহার্য সবার জন্য।আপনি যেকোন ধরনের লেখালেখির কাজ করতে চাইলেই মাইক্রোসফট অফিস প্রয়োজন হবে। লেখালেখির কাজের জন্য এর চাইতে উন্নত এবং সহজ সফটওয়্যার আর হয়না। আপনি যেকোন চাকুরির জন্য আবেদন করতে গেলে সেখানে দেখবেন কম্পিউটার জানা এবং মাইক্রোসফট অফিস জানা আবশ্যক
এ কোর্সের মাধ্যমে মাক্রোসফট অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করে কিভাবে ডাটা এন্ট্রি করবেন এবং তার মাধ্যমে কিভাবে ইনকাম করবেন তা সহজে জানতে পারবেন। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডাটা ও তথ্য ব্যবস্থাপনা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। তাই দক্ষ ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।
কোর্স ফি: 5000/- (শুধুমাত্র ১০ জনের জন্য)
ক্লাস শিডিউল : শুক্রবার ও শনিবার
প্রফেশনাল অফিস এপ্লিকেশন কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে মেসেজ করুন এই লিঙ্কে m.me/774853319279448 অথবা কল করুন 01615614171, 01816009171 নাম্বারে।
প্রয়োজনে যোগাযোগঃ
আর.এম. কম্পিউটার জোন
জেলা পরিষদ মার্কেট (কাচারী রোড)
হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।
ম্যাপ: https://goo.gl/maps/wUMYoFMDUYKfGvbc6
রেজি লিংক:
https://bit.ly/3gfV2wz See less
— at কলেজ গেট,হাটহাজারী.


Friday, November 25, 2022

নিখোজ আয়াতকে ৬ খণ্ড করে সাগরে ভাসাল ‘ক্রাইম পেট্রল’ আসক্ত তরুণ আবির

 ৯ বছর বয়সী তরুণ আবির আলী। ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ‘ক্রাইম পেট্রল’ আর ‘সিআইডি’ দেখে রপ্ত করে লৌমহর্ষক অপরাধ সংঘটন এবং আড়ালের কৌশল। কথা বলে এমনভাবে, যেন সে পুলিশ বাহিনীর সদস্য।

অপরাধ সংঘটনের দক্ষতা সে প্রয়োগ করে বাড়ির মালিকের মেয়ে ৪ বছর ১১ মাস বয়সী আলীনা ইসলাম আয়াতের ওপর। এক বাসায় শ্বাসরোধ করে মেয়েটিকে হত্যা করে আবির। সেই লাশ প্যাকেটে মুড়িয়ে আরেক বাসায় নিয়ে কেটে ছয় টুকরা করে। ছয়টি খণ্ড আলাদা-আলাদা প্যাকেটে ভরে তিনটি ফেলে সাগরে আর নালায় স্লুইচগেটের প্রবেশমুখে। ভাটার টানে চলে যায় আয়াতের মাংসপিণ্ডভর্তি প্যাকেটগুলো, দুইদিন খুঁজেও যেগুলোর সন্ধান মেলেনি।

নৃশংস খুনের পর এবার অপরাধ আড়ালের দক্ষতা প্রয়োগ শুরু করে আবির। নিজেকে সাবলীল রেখে অন্তঃত ১০ দিন সবার চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়। তবে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখে বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) রাতে আবিরকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর মধ্য দিয়ে আয়াতের নিখোঁজ এবং হত্যার রহস্যের উদঘাটন হয়।


কেন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআই জানতে পেরেছে- আয়াতের বাবার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশে আবির ফুটফুটে, চঞ্চল শিশুটিকে লৌমহর্ষকভাবে খুন করেছে। তবে এই দাবি আরও খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন পিবিআই কর্মকর্তারা।

গত ১৫ নভেম্বর বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল আলীনা ইসলাম আয়াত। নগরীর ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানা ও সাহিদা আক্তার তামান্না দম্পতির মেয়ে আয়াত। তিনতলা ভবনের মালিক সোহেলের ওই এলাকায় একটি মুদির দোকান আছে। আয়াত স্থানীয় তালীমূল কোরআন নূরানী মাদরাসার হেফজখানার ছাত্রী ছিল।

গ্রেফতার আবির আলী নয়ারহাট এলাকার সোহেল রানার ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়া আজহারুল ইসলামের ছেলে। তাদের বাড়ি রংপুর জেলায়। একসময় পোশাক কারখানায় চাকরি করলেও গত ছয় মাস ধরে বেকার আবির বখাটে প্রকৃতির বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।


পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের প্রধান পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা সারাবাংলাকে জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আবিরের বাবা আজহারুল ইসলাম এবং মা আলো বেগমের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়। আলো বেগম ছেলে আয়াত ও মেয়ে আঁখি আক্তারকে নিয়ে ইপিজেড থানার আকমল আলী রোডের পকেটবাজার এলাকায় আলাদা বাসা নেন। তবে আয়াতের দুই বাসাতেই যাতায়াত ছিল। বাবার বাসা থেকে বিভিন্নসময় সে মায়ের বাসায় নিয়ে যেত।

আবির আলীর জন্ম, বেড়ে ওঠা সোহেল রানাদের ভাড়া বাসায়। আয়াত তাকে ‘চাচ্চু’ হিসেবে সম্বোধন করত। দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা, যাতায়াত। এলাকায় আয়াতের সমবয়সী খেলার সাথীরাও আবিরকে ‘চাচ্চু’ হিসেবে সম্বোধন করত।


পরিকল্পনা, খুন এবং কেটে টুকরো করা:

১৫ নভেম্বর বিকেল সাড়ে তিনটা। বাসার সামনে রাস্তায় সাথীদের নিয়ে খেলছিল আয়াত। আবির বাবার বাসা থেকে বের হয়ে আয়াতকে কোলে নেয়। কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে। আয়াতকে কোলে নিয়ে বাসার দিকে নিয়ে যায়। আবির যখন কোলে নিয়ে রুমে ঢোকানোর চেষ্টা করছিল, চটপটে আয়াত তখন চিৎকার দেয়। ভেতরে গিয়ে আয়াতের কন্ঠনালী চেপে ধরে। সেখানেই প্রাণ হারায় শিশুটি।

পিবিআই হেফাজতে থাকা আবির আলী সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার শরীরে যত শক্তি আছে, সব শক্তি দিয়ে চেপে ধরে আয়াতকে রুমে নিয়ে যাই। রুমে ঢোকানোর ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই তাকে খাটের ওপর ফেলে গলাটিপে মেরে ফেলি। এরপর দুটি বড় ব্যাগের মধ্যে একটিতে লেপ-কম্বল এবং আরেকটিতে লাশ ঢুকিয়ে বাইরে বের হই। কেউ সন্দেহ করেনি। রিকশায় উঠে পকেটবাজারে আমাদের বাসায় চলে যাই। সেখানে বাথরুমের ওপর তাকের ভেতরে বস্তাসহ লাশ ঢুকিয়ে রাখি।’

‘আমি আয়াতের মায়ের বিয়েতে গিয়েছি, খেয়েছি। আয়াতকে আমরা কোলেপিঠে করে বড় করেছি। যখন গলাটিপে তাকে খুন করছিলাম, তখন আমার গা কাঁপছিল।’- পিবিআই সদস্যদের জানায় আবির

আয়াত নিখোঁজের রহস্য উদঘাটনে গঠিত পিবিআই টিমের পরিদর্শক (মেট্রো) ইলিয়াস খান সারাবাংলাকে বলেন, ‘আবির যখন দুটি বস্তা নিয়ে বাসায় ঢুকছিল, তখন তার মা ও বোন বাসায় ছিল। যেহেতু মাঝে মাঝে আবির তার বাবার বাসা থেকে বিভিন্ন মালামাল আনত, সেটা ভেবে তাদের মধ্যে কোনো সন্দেহ হয়নি। কিছুক্ষণ পর আবিরের মা ও বোন দোতলায় গিয়ে প্রতিবেশিদের সঙ্গে আড্ডায় বসেন। আয়াতও সেখানে গিয়ে কিছুক্ষণ গল্পগুজব করে। এরপর আবার নয়ারহাট এলাকায় বাবার বাসায় যায়। ততক্ষণে আয়াতকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। আবির নিজেও কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির অভিনয় করে।’

আবিরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই পরিদর্শক (মেট্রো) মর্জিনা আক্তার সারাবাংলাকে বলেন, ‘আয়াতকে কোলে নিয়ে রুমে ঢোকার সময় তার স্যান্ডেলগুলো পড়ে গিয়েছিল। তাড়াহুড়োর মধ্যে আয়াতের লাশ নেয়ার সময় স্যান্ডেলগুলো নেয়ার কথা আবিরের মনে ছিল না। পরে আবার সেখানে এসে আয়াতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যখন খোঁজাখুজির অভিনয় করছিল, তখন সুযোগ বুঝে স্যান্ডেলগুলো নেয়। সেগুলো আয়াতের বাসা সংলগ্ন একটি দেয়ালঘেরা কবরস্থান আছে। দেয়ালের ওপর দিয়ে সেগুলো কবরস্থানের ভেতরে একটি পেয়ারা গাছের নিচে ফেলে দেয়।’


এদিকে নয়ারহাট থেকে সন্ধ্যার পর আবির আবার পকেটবাজার এলাকায় চলে আসে। সেখানে একটি দোকান থেকে একটি এন্টিকাটার, পলিব্যাগ ও কচটেপ কিনে রাত ৯টার দিকে বাসায় যায়।

দোকান থেকে এসব পণ্য কেনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে পিবিআই পরিদর্শক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘বাসায় ফিরে আবির তার মা ও বোনকে আয়াত নিখোঁজের তথ্য দিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নয়ারহাট পাঠায়। খালি বাসায় সুযোগ বুঝে ব্যাগ থেকে লাশ বের করে প্রথমে এন্টিকাটার দিয়ে কাটার চেষ্টা করে। না পেরে ঘরের বটি দিয়ে লাশ ছয় টুকরা করে। এন্টিকাটার ও বটি আবিরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আমরা উদ্ধার করেছি।’

আয়াতের লাশ কেটে টুকরো করার বিবরণ দিয়ে গ্রেফতার আবির আলী সারাবাংলাকে জানায়, বাসায় গিয়ে তাক থেকে লাশের ব্যাগ নামিয়ে সে বাথরুমে নিয়ে যায়। লাশ বের করে মাথা থেকে গলা পর্যন্ত এক খণ্ড, দুই হাত দুই খণ্ড, গলার নিচ থেকে উরু পর্যন্ত একখণ্ড এবং দুই পা দুই খণ্ড করে কেটে ফেলে। খণ্ডগুলো ছয়টি আলাদা ব্যাগে ঢুকিয়ে বাথরুমের তাকের ওপর রেখে দেয়। বাথরুমে রক্ত পানি দিয়ে পরিস্কার করে ফেলে।

পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, রাত ১০টার দিকে দাদা মনজুর আলম নাতনি আয়াতকে খুঁজতে পকেটবাজারে আবিরদের বাসায় যায়। তখন আবির বাসায় ছিল। সে মনজুরের সঙ্গে থেকে ওই এলাকায় কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করে। পরে মনজুর বাসায় চলে গেলে আবির তার বাসায় ফিরে যায়। রাতে তার মা ও বোন বাসায় ফিরে। কিন্তু আবির বাথরুমে গোসল করতে থাকায় দরজা ‍খুলতে প্রায় আধাঘণ্টা দেরি হয়। বাসায় ঢুকে তারা কিছুই বুঝতে পারেনি। রাতে ভাত খেয়ে তিনজন ঘুমিয়ে পড়ে। বাথরুমের তাকের ওপর ছিল আয়াতের খণ্ডবিখণ্ড লাশ।

পিবিআইয়ের এসপি (মেট্রো) নাইমা সুলতানা সারাবাংলাকে বলেন, ‘লাশের খণ্ডগুলো থেকে যাতে রক্ত বের না হয়, সেজন্য কচটেপে মুড়িয়ে ব্যাগে ঢুকিয়ে আবারও ভালোভাবে কচটেপে মোড়ানো হয়। ব্যাগের ওপরে পারফিউম ছিটিয়ে দেয়। রুম স্প্রে করে পুরো বাসায়। বাথরুমে রক্ত ভালোভাবে পরিস্কার করে নিজেও গোসল করে। এভাবে ঠাণ্ডা মাথায় কাজ করেছে আবির।’

লাশের টুকরো সাগরে ভাসিয়ে অপরাধ আড়ালের কৌশল:

১৬ নভেম্বর ভোরে মা-বোনের অজ্ঞাতে তিন ব্যাগে থাকা লাশের তিনটি খণ্ড একটি ব্যাগে নিয়ে নগরীর আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে বেড়িবাঁধের পর আউটার রিং রোড সংলগ্ন বে-টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে সেগুলো সাগরে ভাসিয়ে দেয়। এরপর আবার বাসায় ফিরে আসে। রাত ৯টার দিকে বাকি তিনটি খণ্ড ব্যাগে নিয়ে ফেলা হয় আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন নালায় স্লুইচগেটের মুখে।

শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে আবিরকে নিয়ে লাশ ভাসানোর স্থানগুলোতে যায় পিবিআই টিম। সে কোথায়, কখন, কিভাবে লাশের খণ্ডগুলো ফেলেছে তার বিস্তারিত বিবরণ পিবিআই কর্মকর্তাদের দেয়।

আবির আলী জানায়, ১৬ নভেম্বর সকালে তিনটি লাশের খণ্ড নিয়ে বাসা থেকে হেঁটে আউটার রিং রোড সংলগ্ন বে-টার্মিনাল এলাকায় যায়। তখন সাগরে ভাটার টান ছিল। সে দ্রুত তিনটি ব্যাগে তিনটি খণ্ড সাগরে ফেলে দেয় এবং সেগুলো পানির টানে নেমে যায়। তিনটি ব্যাগে গলার নিচ থেকে উরু পর্যন্ত একটি ব্যাগে এবং দুইটি পা আলাদা দুইটি ব্যাগে ছিল।

এরপর রাত ৯টায় বাকি তিনটি খণ্ড নিয়ে যায় আলী রোডের শেষপ্রান্তে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায়। সেখানে একটি নালায় স্লুইচগেটের মুখে তিন খণ্ডের তিন প্যাকেট ফেলে দেয়। পানির স্রোতে সেগুলো নালা দিয়ে সাগরে চলে যায়। একই স্থানে আবির আয়াতের হিজাব, ওড়নাসহ পোশাক একটি প্যাকেটে ভরে ফেলে দেয়।

পিবিআই পরিদর্শক ইলিয়াস খান সারাবাংলাকে বলেন, ‘আটকের পর লাশের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছিল আবির। তবে বন্দর থেকে সংগ্রহ করা একটি ফুটেজে আমরা তাকে কালো একটি ব্যাগ নিয়ে হেঁটে যেতে দেখি। সেই ব্যাগ আমরা তার বাসায় তল্লাশি করে পাইনি। তখন আমরা তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে একপর্যায়ে সে পুরো ঘটনার বিবরণ আমাদের দেয়।’


যেভাবে শনাক্ত হল আবির আলী:

পিবিআইয়ের এসপি (মেট্রো) নাইমা সুলতানা সারাবাংলাকে জানান, আয়াতের দাদা ইপিজেড থানায় দায়ের হওয়া একটি নিখোঁজ জিডি নিয়ে তাদের কাছে সহযোগিতা চান। তাৎক্ষণিক একটি টিম গঠন করা হয়। ১৮ নভেম্বর থেকে তদন্তে নামেন ওই টিমের সদস্যরা। তবে তিনদিন ধরে এলাকায় গিয়ে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি।

২১ নভেম্বর পিবিআই পরিদর্শক মর্জিনা আক্তারের নেতৃত্বে একটি টিম আয়াতের বাসায় যান। বাসার সামনে রাস্তায় খেলছিল আয়াতের সাথীরা। মর্জিনা তাদের কাছে আয়াতের বিষয়ে জানতে চান। তারা জানায়, ১৫ নভেম্বর বিকেলে আয়াতকে তারা আবির চাচ্চুর কোলে দেখেছে। সেটাকেই সূত্র হিসেবে ধরে আবিরের পরিচয় উদঘাটন করা হয়। তার বাবা ও মায়ের আলাদা বাসা শনাক্ত করা হয়। আয়াতের বাসার আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়।

পিবিআই কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘আমরা আবিরকে জিজ্ঞেস করি যে- তুমি বাচ্চা কোলে নিয়েছ, এই বাচ্চা গেল কোথায় ? সে জবাব দেয়- আমি আদর করে রেখে দিয়েছি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখি, ১৫ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দুইটা ব্যাগ নিয়ে আবির তার বাবার বাসা থেকে বের হচ্ছে। একটা কালো ব্যাগ একটু বড় ছিল। তার বাসায় গিয়ে লেপ-কম্বলের ব্যাগটি পাওয়া গেলেও কালো ব্যাগটি পাওয়া যায়নি। তখনই আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করি যে, আবিরের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। আমরা আটক করে তাকে আমাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি এবং একপর্যায়ে সে ঘটনা স্বীকার করে।’

ক্রাইম সিরিয়ালে আসক্ত আবির:

পিবিআইয়ের এসপি (মেট্রো) নাইমা সুলতানা সারাবাংলাকে জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আবির ছিল শান্ত, স্থির যাতে কেউ সন্দেহ না করে। তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা ছিল না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষায় উত্তর দিচ্ছিল- আমি এভিডেন্স সরিয়ে ফেলেছি, এভিডেন্স লুকিয়ে ফেলেছি, আলামত রাখিনি।

‘আবিরের এ ধরনের কথাবার্তা শুনে বিস্মিত হয়ে যাই। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় ছোটবেলা থেকে তার ক্রাইম সিরিয়ালের দেখার আগ্রহের কথা। সে নিয়মিত টিভি সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রল আর সিআইডি দেখে। কিভাবে অপরাধ করলে ধরা পড়বে না, আলামত কিভাবে ধ্বংস করতে হবে সেই কৌশল পুরোপুরি রপ্ত করা আছে তার। খুনের পর পালিয়ে না যাবার কারণ হিসেবে জানিয়েছে, পালিয়ে গেলে সবাই তাকে সন্দেহ করত।’- বলেন নাইমা সুলতানা

এদিকে ঘটনার পর আবির তার বন্ধু হাসিবকে জানিয়েছিল, আয়াতকে খুন করে সে লাশ কেটে সাগরে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু হাসিব বিষয়টি গোপন রাখায় তাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পিবিআই।

কেন এই নৃশংসতা ?

পিবিআই হেফাজতে থাকা আবির সারাবাংলাকে জানায়, বাবা-মায়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তারা অর্থকষ্টে পড়ে। মা ও আবির দু’জনই পোশাক কারখানায় চাকরি করত। হঠাৎ দুজনের চাকরি চলে যায়। টাকার জন্যই মূলত আয়াতকে জিম্মি করে কিংবা খুন করে তার বাবার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের কৌশল নিয়েছিল।

পিবিআইয়ের এসপি (মেট্রো) নাইমা সুলতানা বলেন, ‘ছয়মাস আগে আয়াতকে টার্গেট করে আবির পরিকল্পনা করেছে। উদ্দেশ্য ছিল আয়াতের পরিবার থেকে কিছু টাকা আদায় করা। তবে আবিরের এই দাবি সত্যি কি না সেটা আরও খতিয়ে দেখা হবে।’

পিবিআই পরিদর্শক ইলিয়াস খান সারাবাংলাকে বলেন, ‘পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আবির তার মায়ের সেলাই মেশিন বিক্রি করে কিছু টাকা সংগ্রহ করেছিল। ৩০০ টাকা দিয়ে একটি মোবাইল কিনেছিল। রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া একটি বাংলালিংকের সীম নিজের কাছে রেখেছিল আয়াতের বাবাকে ফোন করে মুক্তিপণ দাবির জন্য।’

‘আয়াতকে রুমে নেয়ার পর যখন সেই সীম মোবাইলে ঢুকিয়ে ফোন করতে গেল, তখন দেখা গেল সেটি ব্লক করা। এ অবস্থায় বাচ্চাকে ছেড়ে দিলে সে সবকিছু জানিয়ে দেবে। আবার বাচ্চাটাকে রাখবে কোথায়- এই চিন্তা থেকেই মেরে ফেলে। খুনের পর মুক্তিপণ দাবি করা যাবে ভেবেছিল। কিন্তু পরিচিত কারও মোবাইল থেকে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করলে যে ধরা পড়ে যাবে, এটা সে বোঝে। সহজে তাকে শনাক্ত করা যাবে, এমন কোনো কাজ সে করেনি।’

এদিকে শুক্রবার দুপুরে আবিরকে নিয়ে পিবিআই টিম আয়াতের বাসায় যায়। সেখানে কবরস্থান থেকে


স্যান্ডেল দু’টি উদ্ধারের পর আয়াতের মা তামান্না সেগুলো শনাক্ত করেন। এসময় তিনি জানতে পারেন, তার একমাত্র সন্তান আর পৃথিবীতে নেই। তিনি কান্নায় ভেঙ্গে দাঁড়ানো অবস্থা থেকে পড়ে যান। সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।